মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ইউনিয়ন পরিষদের কার্যাবলী

ইউনিয়ন পরিষদের সভা , ক্ষমতা ও কার্যাবলী

০১

 

পাঁচশালা ও বিভিন্ন মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরী।

০২

 

পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, সংরক্ষণও রক্ষনাবেক্ষণ।

০৩

 

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত।

০৪

 

স্বাস্থ,পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন।

০৫

 

কৃষি,মৎস্য ও পশু সম্পদ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমগ্রহণ।

০৬

 

মহামারী নিয়ন্ত্রন ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনায়  প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ।

০৭

 

কর,ফি, টোল, ফিস ইত্যাদি ধার্যকরণ ও আদায়।

০৮

 

পারিবারিক বিরোধ নিরসন,নারী ও শিশু কল্যান সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন।

০৯

 

খেলাধুলা,সামাজিক উন্নতি সংস্কৃতি ইত্যাদি  কার্যক্রমে প্রয়োজনীয়  উদ্যোগ গ্রহন ও সহযোগিতা প্রদান।

১০

 

পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

১১

 

আইন শৃংখলা রক্ষায় সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজনীয় কাযক্রম গ্রহণ।

১২

 

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধীকরণ।

১৩

 

সরকারি স্থান, উন্মুক্ত জায়গা,উদ্যান ও খেলার মাঠের হেফাজত করা।

১৪

 

ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তায় ও সরকারী স্থানে বাতি জ্বালানো।

১৫

 

বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণ এবং বৃক্ষসম্পদ চুরি ও ধ্বংস প্রতিরোধ।

১৬

 

কবরস্থান,শ্মশান,জনসাধারণের সভার স্থান ও অন্যান্য সরকারী সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা।

১৭

 

জনপথ,রাজপথ ও সরকারি স্থানে অনথিকার প্রবেশ রোধ এবং এইসব স্থানে উৎপাত ও তাহার কারণবন্ধ করা ।

১৮

 

জনপথ ও রাজপথের ক্ষতি,বিনষ্ট বা ধ্বংস প্রতিরোধ করা।

১৯

 

গোবর ও রাস্তার আবজর্না সংগ্রহ,অপসারণ ও ব্যাবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

২০

 

অপরাধ মূলক ও বিপজ্জনক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ।

২১

 

মৃত পশুর দেহ অপসারণ ও নিয়ন্ত্রন এবং পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ।

২২

 

ইউনিয়নে নতুন বাড়ী,দালান নির্মান ও পুনঃ নির্মান এবং বিপজ্জনক দালান নিয়ন্ত্রন।

২৩

 

কূয়া,পানি তোলার কল,জলাধার,পুকুর এবং পানি সরবরাহের অন্যান্য উৎসের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ।

২৪

 

খাবার পানির উৎসের দূষণ রোধ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সন্দেহযুক্ত কূপ,পুকুর বা পানি  সরবরাহের অন্যান্য স্থানের পানি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।

২৫

 

খাবার পানির জন্য সংরক্ষিত কূপ,পুকুর বা পানি সরবরাহের অন্যান্য স্থানে বা নিকটবর্তী স্থানে গোসল

কাপড় কাচাঁ বা পশু গোসর করানো নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা।

২৬

 

পুকুর বা পানি সরবরাহের অন্যান্য স্থানে বা নিকট বর্তী ন্থানে শন , পাট বা অন্যান্য ভিজানো নিষিদ্ধ   নিয়ন্ত্রণ করা।

২৭

 

আবাসিক এলাকার মধ্যে চামড়া রং করা বা পাকা করা নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা।

২৮

 

আবাসিক এলাকার মাটি খনন করিয়া পাথর বা অন্যান্য বস্তু উত্তোলন নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা।

২৯

 

আবাসিক এলাকায় ইট,মাটির পাত্র বা অন্যান্য ভাটি নির্মান নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা।

৩০

 

অগ্নি,বন্যা,শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়, ভূমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোতাবিলায় প্রয়োজনীয় তৎপরতা গ্রহন ও সরকারকে সার্বক্ষনিক সহায়তা প্রদান।

৩১

 

বিধবা,এতিম,গরিব ও দুঃস্থ ব্যাক্তিদের তালিকা সংরক্ষন ও সাহায্য করা।

৩২

 

সমবায় আন্দোলন ও গ্রামীণ শিল্পের উন্নয়ন উৎসাহ প্রদান।

৩৩

 

বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহন।

৩৪

 

গবাদি পশুর খোয়ার নিয়ন্ত্রন ও রক্ষনাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৩৫

 

প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা।

৩৬

 

ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা,আরাম-আয়েশ বা সুযোগ সুবিধার জন্য প্রয়োজনিয় অন্যান্য ব্যবস্থা  গ্রহন।

৩৭

 

ই-গভর্ণেন্স চালু উৎসাহিতকরণ।

৩৮

 

ইউনিয়ন পরিষদের মত সদৃশ কাজে নিয়োজিত অন্যান্য সংস্থার সাথে সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

৩৯

 

সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে আরোপিত দায়িত্ববলী।

ইউনিয়ন পরিষদের সভা , ক্ষমতা ও কার্যাবলী প্রসঙ্গে  ইউনিয়ন পরিষদ আইন-২০০৯ নিম্নে প্রদত্ত হল:

 

অষ্টম অধ্যায়
পরিষদের সভা, ক্ষমতা ও কাযাবর্লী
  
পরিষদের সভা  
৪২। (১) প্রত্যেক পরিষদ, পরিষদের কাযার্লয়ে প্রতি মাসে ন্যূনতম একটি সভা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করিবে এবং উক্ত সভা অফিস সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হইবে।

(২) পরিষদের ৫০% সদস্য তলবী সভা আহবানের জন্য চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অনুরোধ জানাইলে তিনি ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে অনুষ্ঠেয় একটি সভার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করিয়া সভা অনুষ্ঠানের কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন পূবে পরিষদের সদস্যগণকে নোটিশ প্রদান করিবেন।

(৩) পরিষদের চেয়ারম্যান উপ-ধারা (২) অনুযায়ী তলবী সভা আহবান করিতে ব্যর্থ হইলে প্যানেল চেয়ারম্যান (ক্রমানুসারে) ১০ (দশ) দিনের মধ্যে অনুষ্ঠেয় সভা আহবান করিয়া কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন পূবে পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণকে নোটিশ প্রদান করিবেন; উক্তরূপ সভা পরিষদের কাযার্লয়ে নির্ধারিত তারিখে অফিস চলাকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।

(৪) তলবী সভা পরিচালনাকালীন সময়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার কতৃর্ক নিয়োগকৃত একজন কর্মকর্তা পযবের্ক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকিতে পারিবেন, যিনি উক্তরূপ তলবী সভা পরিচালনা ও সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসারের নিকট একটি লিখিত প্রতিবেদন সভা অনুষ্ঠানের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে দাখিল করিবেন।

(৫) চেয়ারম্যান অথবা তাঁহার অনুপস্থিতিতে তাঁহার দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি, প্রয়োজনে, যে কোন সময় পরিষদের বিশেষ সভা আহবান করিতে পারিবেন।

(৬) সদস্যগণের মোট সংখ্যার এক তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে কোরাম হইবে, তবে কোরামের অভাবে কোন সভা মুলতবী হইলে মুলতবী সভায় কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৭) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পরিষদের সভায় সকল সিদ্ধান্ত উপস্থিত সদস্যগণের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হইবে।



(৮) প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতি একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।

(৯) পরিষদের সভায় চেয়ারম্যান অথবা তাঁহার অনুপস্থিতিতে অগ্রাধিকারের ক্রমানুসারে চেয়ারম্যান প্যানেলের সদস্য অথবা উভয়ের অনুপস্থিতিতে, উপস্থিত সদস্যগণ কতৃর্ক নিবার্চিত কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।

(১০) সরকার কতৃর্ক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত কর্মকর্তাগণ পরিষদের আমন্ত্রণে পরিষদের সভায় যোগদান এবং সভার আলোচনায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে তাহাদের ভোটাধিকার থাকিবে না।

(১১) কোন্ প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হইয়াছে বা হয় নাই তাহা সভাপতি উক্ত সভায় স্পষ্ট করিয়া জানাইয়া দিবেন।

(১২) সভার আলোচ্যসূচিতে কারিগরি ও গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞের মতামত প্রয়োজন হইলে পরিষদ উক্ত বিষয় বা বিষয়সমূহের উপর মতামত প্রদানের জন্য এক বা একাধিক বিশেষজ্ঞকে সভায় আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।
  
 
  
   
  
পরিষদের সভায় সম্পাদনীয় কার্য তালিকা 
৪৩। পরিষদের কোন মূলতবী সভা ব্যতীত পরিষদের অন্য প্রত্যেক সভায় সম্পাদনীয় কাযাবর্লীর একটি তালিকা, উক্তরূপ সভার জন্য নির্ধারিত সময়ের ন্যূনতম ৭ (সাত) দিন পূবে পরিষদের প্রত্যেক সদস্যের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমোদন ব্যতীত, উক্তরূপ তালিকা বহির্ভূত কোন বিষয় সভায় আলোচনার জন্য আনীত হইবে না বা সম্পাদিত হইবে না; তবে, যদি চেয়ারম্যান মনে করেন যে, এইরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হইয়াছে যাহার জন্য পরিষদের একটি জরুরি সভা আহবান করা সমীচীন, তাহা হইলে, তিনি সদস্যগণকে ৩ (তিন) দিনের নোটিশ প্রদানের পর এইরূপ একটি সভা আহবান করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ সভায় নির্ধারিত আলোচ্যসূচী ব্যতীত অন্য কোন বিষয় আলোচনা করা যাইবে না।
  
 
  
   
  
পরিষদের কাযাবর্লী কাযর্ধারায় 
৪৪। (১) পরিষদের সকল কাযাবর্লী বিধি দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ও পদ্ধতিতে পরিষদের সভায় অথবা স্থায়ী কমিটিসমূহের সভায় অথবা উহার চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কতৃর্ক কাযর্ধারায় হইবে।

(২) কোন পদ শূন্য থাকিলে বা পরিষদের গঠন প্রক্রিয়ায় কোন ত্রুটি রহিয়াছে কিংবা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত হইবার বা ভোটদানে বা অন্য উপায়ে ইহার কাযর্ধারায় অংশগ্রহণে অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কায করিয়াছেন কেবল এই কারণে পরিষদের কোন কায বা কাযধারা অবৈধ হইবে না।

(৩) পরিষদের প্রত্যেক সভার কাযবিবরণী এই উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত একটি বইয়ে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(৪) সভার কাযবিবরণী স্বাক্ষরিত হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত উপজেলা নিবার্হী অফিসারের নিকট প্রেরণ করিয়া অনুলিপি ডেপুটি কমিশনারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
  
 
  
   
  
স্থায়ী কমিটি গঠন ও উহার কাযাবর্লী 
৪৫। (১) ইউনিয়ন পরিষদ উহার কাযাবর্লী সুচারুরূপে সম্পাদন করিবার জন্য পরিষদের দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথম সভা অনুষ্ঠানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির প্রত্যেকটি সম্পর্কে একটি করিয়া স্থায়ী কমিটি গঠন করিবে যাহার মেয়াদ সবোর্চ্চ দুই বৎসর ছয় মাস হইবে, যথাঃ-

(ক) অর্থ ও সংস্থাপন;



(খ) হিসাব নিরীক্ষা ও হিসাব রক্ষণ;



(গ) কর নিরুপন ও আদায়;



(ঘ) শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা;



(ঙ) কৃষি, মৎস্য ও পশু সম্পদ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কাজ;



(চ) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ইত্যাদি;



(ছ) আইন-শৃংখলা রক্ষা;



(জ) জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন;



(ঝ) স্যানিটেশন, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশন;



(ঞ) সমাজকল্যাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা;



(ট) পরিবেশ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ;



(ঠ) পারিবারিক বিরোধ নিরসন, নারী ও শিশু কল্যাণ (পাবর্ত্য চট্রগ্রামের অধিবাসীদের জন্য প্রযোজ্য হইবে না);



(ড) সংস্কৃতি ও খেলাধুলা।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত স্থায়ী কমিটি ব্যতীত পরিষদ, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, প্রয়োজনে, ডেপুটি কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, অতিরিক্ত স্থায়ী কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

(৩) স্থায়ী কমিটির সভাপতি কো-অপট সদস্য ব্যতীত পরিষদের সদস্যগণের মধ্য হইতে নিবার্চিত হইবেন এবং মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন হইতে নিবার্চিত সদস্যগণ অন্যূন এক-তৃতীয়াংশ স্থায়ী কমিটির সভাপতি থাকিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুধুমাত্র আইন শৃংখলা বিষয়ক কমিটির সভাপতি থাকিবেন।

(৪) স্থায়ী কমিটি পাঁচ হইতে সাত সদস্য বিশিষ্ট হইবে এবং কমিটি প্রয়োজনে, সংশিস্নষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কোন একজন ব্যক্তিকে কমিটির সদস্য হিসাবে কো-অপট করিতে পারিবে, তবে কো-অপট সদস্যের কোন ভোটাধিকার থাকিবে না।

(৫) অন্যান্য সদস্যগণ স্থানীয় জনসাধারণের মধ্য হইতে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে অবদান রাখিবার যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন।

(৬) স্থায়ী কমিটির সুপারিশ পরিষদের পরবর্তী সভায় বিবেচনার পর গৃহীত হইবে; তবে কোন সুপারিশ ইউনিয়ন পরিষদে গৃহীত না হইলে তাহার যথার্থতা ও কারণ লিখিতভাবে স্থায়ী কমিটিকে জানাইতে হইবে।

(৭) স্থায়ী কমিটির সকল কার্যধারা পরিষদের সাধারণ সভার অনুমোদন সাপেৰে চূড়ান্ত হইবে।

(৮) নিম্নলিখিত কারণে পরিষদ কোন স্থায়ী কমিটি ভাঙ্গিয়া দিতে পারিবে, যথা :-

(ক) বিধি মোতাবেক নিয়মিত সভা আহ্বান করিতে না পারিলে;

(খ) নির্ধারিত ৰেত্রে ক্রমাগতভাবে পরিষদকে পরামর্শ প্রদানে ব্যর্থ হইলে; অথবা

(গ) এই আইন বা অন্য কোন আইনের বিধান বহির্ভূত কোন কাজ করিলে।

(৯) প্রত্যেক স্থায়ী কমিটি প্রতি দুইমাস অনত্দর সভায় মিলিত হইবে, তবে প্রয়োজনে অতিরিক্ত সভা অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

(১০) স্থায়ী কমিটির কার্যাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে, তবে উক্তরূপ প্রবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের সাধারণ সভায় স্থায়ী কমিটির কার্যাবলী নিরূপন করা যাইবে।
  
 
  
   
  
পরিষদের নিবার্হী ক্ষমতা 
৪৬। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য সাধন এবং পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকল্পে চেয়ারম্যান পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।

(২) এই আইনের অন্যান্য ধারায় বর্ণিত বিষয়সমূহকে ক্ষুণ্ন না করিয়া চেয়ারম্যান নিম্নরূপ দায়িত্বসমূহ পালন করিবেন, যথা :-

(ক) তিনি পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং সভা পরিচালনা করিবেন;

(খ) পরিষদের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজ কর্ম তদারকী ও নিয়ন্ত্রণ করিবেন এবং তাঁহাদের গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবেন;

(গ) সরকার বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ব্যয় সীমা পর্যন্ত ব্যয় নির্বাহ করিবেন;

(ঘ) তিনি বা পরিষদের সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে পরিষদের সকল আয় ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা করিবেন;

(ঙ) পরিষদের ব্যয় মিটানো এবং পাওনা আদায়ের জন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে ক্ষমতা অর্পণ করিবেন;

(চ) এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় সকল বিবরণী ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবেন;

(ছ) এই আইন বা বিধি দ্বারা আরোপিত অন্যান্য ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৩) চেয়ারম্যান, পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে, আইন, অধ্যাদেশ বা বিধি-বিধান এর পরিপন্থী নয়, এইরূপ জনস্বার্থ বা জনগুরম্নত্বপূর্ণ কোন জরম্নরি কাজ সমপাদনের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন, এবং এই ধরনের কার্য সমপাদনের ব্যয়ভার পরিষদ তহবিল হইতে বহনের নির্দেশ দিতে পারিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে চেয়ারম্যান পরিষদের পরবর্তী সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদন পরিষদের সভায় অনুমোদিত হইতে হইবে।

(৫) উপ-ধারা (১), (২),(৩) ও (৪) এ বর্ণিত দায়িত্ব ছাড়াও পরিষদের চেয়ারম্যান নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন, যথা :-

(ক) তিনি পরিষদের সভায় পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণ ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সংশ্লিষ্টকর্মকর্তা বা কর্মচারীগণের উপস্থিতি নিশ্চিত করিবেন;

(খ) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির পরিপন্থী এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণে সচিব এবং হস্তান্তরিত অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যতীত পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য কর্মচারীগণকে প্রয়োজনে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া সাময়িক বরখাসত্দ করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, পরিষদের পরবর্তী সাধারণ সভায় উক্তরূপ সাময়িক বরখাস্ত অনুমোদিত হইতে হইবে অন্যথায় উহা কার্যকর হইবে না;

(গ) পরিষদের সচিবের নিকট হইতে পরিষদের প্রশাসনিক বিষয় সংক্রান্ত যে কোন ক্লাসিফাইড রেকর্ড বা নথি লিখিতভাবে তলব করিতে এবং আইন ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন; তবে তিনি এইরূপ কোন ক্লাসিফাইড রেকর্ড বা নথি তলব করিতে পারিবেন না, যাহা সম্পূর্ণরূপে সচিব বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে থাকিবে;

(ঘ) এই আইন বা বিধি, প্রবিধান, ইত্যাদির পরিপন্থী এবং প্রশাসনিক বিশৃংখলা সৃষ্টির কারণে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য কর্মচারীদের বিরম্নদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন প্রেরণ করিতে পারিবেন;

(ঙ) তাঁহার বিবেচনায় পরিষদের কোন সিদ্ধান্ত এই আইন বা অন্য কোন আইন বা বিধি-বিধানের পরিপন্থী হইলে, অথবা উক্তরূপ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হইলে উহা জনস্বাস্থ্য, জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তা বিপন্ন করিবে বলিয়া বিবেচিত হইলে, তিনি উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন।

(৬) পরিষদের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য পরিষদের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং উহা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রমাণিকৃত হইতে হইবে।

(৭) পরিষদের দৈনন্দিন সেবা প্রদানমূলক দায়িত্ব ত্বরান্বিত করিবার লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্বাহী ক্ষমতা বিভাজনের প্রস্তাব পরিষদের সভায় অনুমোদিত হইতে হইবে এবং, প্রয়োজনবোধে, সময়ে সময়ে, ইহা সংশোধনের এখতিয়ার পরিষদের থাকিবে।
  
 
  
   
  
পরিষদের কাযাবর্লী 
৪৭। (১) পরিষদের প্রধান কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

ক) প্রশাসন ও সংস্থাপন বিষয়াদি;

(খ) জনশৃংখলা রৰা;

(গ) জনকল্যাণমূলক কার্য সমপর্কিত সেবা; এবং

(ঘ) স্থানীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সমপর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রধান কার্যাবলীর উপর ভিত্তি করিয়া পরিষদের কার্যাবলী দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত হইল।

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহাই থাকুক না কেন, বিশেষ করিয়া, এবং উক্তরূপ উপ-ধারাসমূহের সামগ্রিকতাকে ৰুণ্ন না করিয়া, সরকার সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের (টি,আর,কাবিখা, থোক বরাদ্দ ও অন্যান্য) সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের এক তৃতীয়াংশ উন্নয়ন প্রকল্প বাসত্দবায়ন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যকে অর্পণ করিতে হইবে।
  
 
  
   
  
ইউনিয়ন পরিষদের পুলিশ ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বিষয়ক কাযাবর্লী  
৪৮। (১) সরকার, সময়ে সময়ে, চাহিদা মোতাবেক গ্রামীণ এলাকায় গ্রাম পুলিশ বাহিনী গঠন করিতে পারিবে এবং সরকার কতৃর্ক উক্ত গ্রাম পুলিশ বাহিনী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, শৃংখলা এবং চাকুরির শর্তাবলী নিধারর্ণ করা হইবে।

(২) সরকার যেরূপ নির্দেশ প্রদান করিবে গ্রাম পুলিশ সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে।



(৩) ডেপুটি কমিশনারের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন ইউনিয়ন বা তাহার অংশ বিশেষে জননিরাপত্তা ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রহিয়াছে সেই ক্ষেত্রে উক্ত এলাকার প্রাপ্তবয়স্ক সক্ষম ব্যক্তিগণকে আদেশে উল্লিখিত পদ্ধতিতে গণপাহারায় নিয়োজিত করিতে পারিবে।



(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন আদেশ জারি করা হইলে ইউনিয়ন পরিষদ আদেশে উল্লিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে।
  
 
  
   
  
নাগরিক সনদ প্রকাশ 
৪৯। (১) এই আইনের অধীন গঠিত প্রতিটি পরিষদ, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া বিভিন্ন প্রকারের নাগরিক সেবা প্রদানের বিবরণ, সেবা প্রদানের শর্তসমূহ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করিবার বিবরণ প্রকাশ করিবে যাহা "নাগরিক সনদ"(Citizen Charter) বলিয়া অভিহিত হইবে।

(২) সরকার পরিষদের জন্য আদর্শ নাগরিক সনদ সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন করিবে এবং পরিষদ আইন ও বিধি সাপেক্ষে, এ নির্দেশিকার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করিবার ক্ষমতা রাখিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধরনের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা হইলে, তাহা অবগতির জন্য সরকারকে অবহিত করিতে হইবে।

(৩) নাগরিক সনদ সময়ে সময়ে হাল নাগাদ করিতে হইবে।

(৪) নাগরিক সনদ সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নে নিম্নবর্ণিত বিষয় অনত্দর্ভুক্ত থাকিবে, যথা :-

(ক) প্রতিটি সেবার নির্ভূল ও স্বচ্ছ বিবরণ;

(খ) সেবা প্রদানের মূল্য;

(গ) সেবা গ্রহণ ও দাবি করা সংক্রান্ত যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া;

(ঘ) সেবা প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা;

(ঙ) সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে নাগরিকদের দায়িত্ব;

(চ) সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা;

(ছ) সেবা প্রদান সংক্রান্ত অভিযোগ নিষপত্তির প্রক্রিয়া; এবং

(জ) সনদে উল্লিখিত অঙ্গীকার লংঘনের ফলাফল।
  
 
  
   
  
উন্নততর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও সুশাসন 
৫০। (১) প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ সুশাসন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উন্নততর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পুরণকল্পে সরকার আর্থিক ও কারিগরি সাহায্যসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করিবে।

(৩) পরিষদ নাগরিক সনদে বর্ণিত আধুনিক সেবা সংক্রান্ত বিষয়সহ সরকারিভাবে প্রদত্ত সকল সেবার বিবরণ উন্নততর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের জ্ঞাত করিবার ব্যবস্থা করিবে।
  
 
  
  নবম অধ্যায়
পরিষদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ও তহবিল
  
পরিষদের সম্পত্তি অর্জন, দখলে রাখিবার ও নিষ্পত্তি করিবার ক্ষমতা 
৫১। (১) প্রত্যেক পরিষদের সমপত্তি অর্জনের, দখলে রাখিবার ও নিষ্পত্তি করিবার এবং চুক্তিবদ্ধ হইবার ক্ষমতা থাকিবে; তবে, স্থাবর সমপত্তি অর্জন বা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পরিষদকে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

(২) সরকার নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা :-

(ক) পরিষদের মালিকানাধীন বা উহার উপর ন্যস্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, হস্তান্তর, নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন সংক্রান্ত;

(খ) পরিষদের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত।

(৩) পরিষদ প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে-

(ক) উহার মালিকানাধীন বা উহার উপর বা উহার তত্তাবধানে ন্যস্ত যে কোন সমপত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিদর্শন ও উন্নয়ন করিতে পারিবে;

(খ) এই আইন বা বিধির উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্ত সম্পত্তি কাজে লাগাইতে পারিবে; এবং

(গ) দান, বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা, বিনিময়ের মাধ্যমে যে কোন সমপত্তি অর্জন বা হস্তান্তর করিতে পারিবে।

(৪) পরিষদ যথাযথ জরিপের মাধ্যমে উহার নিয়ন্ত্রণাধীন সকল সমপত্তির বিবরণাদি প্রস্তুত করিয়া প্রতি বৎসর উহা হালনাগাদ করিবে এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সম্পদের বিবরণী, মানচিত্র প্রস্তত করিয়া উহার একটি অনুলিপি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৫) এই আইন বা নির্ধারিত পদ্ধতি উপেক্ষা বা লংঘন করিয়া যদি সম্পত্তি অর্জন, দখল ও নিষ্পত্তি করা হয়, তাহা হইলে, উহা অবৈধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রদানকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য এই আইনের বিধান অনুযায়ী শাস্তি প্রাপ্য হইবেন।
  
 
  
   
  
পরিষদে সম্পদ হস্তান্তর 
৫২। সরকার, কোন পরিষদ বা উহার স্থানীয় অধিক্ষেত্রের মধ্যে অবস্থিত কোন সরকারি সমপত্তি সংশ্লিষ্ট আইন বা বিধি-বিধান অনুযায়ী উক্ত পরিষদকে হস্তান্তর করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ হস্তান্তরিত সমপত্তি ঐ পরিষদের উপর বর্তাইবে ও উহার নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকিবে।
  
 
  
   
  
পরিষদের তহবিল 
৫৩। (১) প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের জন্য সংশ্লিষ্ট পরিষদের নামে একটি তহবিল থাকিবে।



(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত তহবিলে নিম্নবর্ণিত উৎসসমূহ থেকে প্রাপ্ত অর্থ জমা হইবে, যথাঃ-

(ক) সরকার কতৃর্ক প্রদত্ত অনুদান ও মঞ্জুরী;

(খ) এই আইনের বিধান অনুযায়ী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সকল স্থানীয় উৎস হইতে আয়;

(গ) অন্য কোন পরিষদ কিংবা কোন স্থানীয় কতৃর্পক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ও মঞ্জুরী;

(ঘ) সরকার কর্তৃপক্ষ মঞ্জুরীকৃত ঋণসমূহ (যদি থাকে);



(ঙ) পরিষদ কতৃর্ক, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আদায়কৃত সকল কর, রেইট, টোল ও ফিস বাবদ প্রাপ্ত অর্থ;



(চ) পরিষদের উপর ন্যস্ত এবং তৎকতৃর্ক নির্মিত বা নিয়ন্ত্রিত বা পরিচালিত বিদ্যালয়, হাসপাতাল, ঔষধালয়, ভবন, প্রতিষ্ঠান বা পূর্ত কায হইতে প্রাপ্ত সকল আয় বা মুনাফা;



(ছ) কোন ট্রাষ্টের নিকট হইতে উপঢৌকন বা অনুদান হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ;



(জ) এই আইনের বিধান অনুযায়ী প্রাপ্ত জরিমানা ও অর্থদণ্ডের অর্থ;

(ঝ) পরিষদ কতৃর্ক প্রাপ্ত অন্য সকল প্রকার অর্থ।

(ঞ) এই আইন কার্যকর হইবার কালে সংশ্লিষ্ট পরিষদের সম্পূর্ণ এখতিয়ারে উদ্বৃত্ত তহবিল।
  
 
  
   
  
পরিষদের ব্যয় 
৫৪। (১) তহবিলের অর্থ নিম্নলিখিত খাতসমূহে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যয় করিতে হইবে, যথা :-

(ক) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান;

(খ) এই আইনের অধীন তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;

(গ) এই আইন বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা অধ্যাদেশ দ্বারা ন্যস্ত পরিষদের দায়িত্ব সম্পাদন ও কর্তব্য পালনের জন্য ব্যয়;

(ঘ) নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদনক্রমে পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;

(ঙ) সরকার কর্তৃক পরিষদের উপর ঘোষিত দায়যুক্ত ব্যয়।

(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিষদ যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে পরিষদের তহবিল হইতে সেইরূপ অর্থ ব্যয় করিবার ক্ষমতা উহার থাকিবে।

(৩) তহবিলে জমা খাতে উদ্বৃত্ত অর্থ, সরকার সময়ে সময়ে যেরূপ নির্দেশ দিবে, সেইরূপ খাতে ব্যয় হইবে।

(৪) পরিষদের তহবিল পরিষদ চেয়ারম্যান ও সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হইবে।
  
 
  
   
  
পরিষদের তহবিল সংরক্ষণ বা বিনিয়োগ এবং বিশেষ তহবিল গঠন 
৫৫। (১) পরিষদের তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোন সরকারি ট্রেজারীতে বা সরকারি ট্রেজারীর কার্য পরিচালনাকারী কোন ব্যাংকে বা সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রাখিতে হইবে।

(২) পরিষদ নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার তহবিলের যে কোন অংশ বিনিয়োগ করিতে পারিবে।

(৩) পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে পৃথক তহবিল গঠন এবং সংরৰণ করিতে পারিবে, যাহা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে।
  
 
  
   
  
দায়যুক্ত ব্যয় 
৫৬। (১) পরিষদ তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে, যথাঃ -

(ক) পরিষদের চাকুরিতে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে (প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত কিংবা নিজস্ব) বেতন ও ভাতা হিসেবে প্রদেয় সমুদয় অর্থ;



(খ) সরকার কতৃর্ক নির্দেশিত পরিষদের নিবার্চন পরিচালনা, হিসাব নিরীক্ষা বা সময়ে সময়ে সরকারের নির্দেশক্রমে অন্য কোন বিষয়ের জন্য পরিষদ কতৃর্ক প্রদেয় অর্থ;



(গ) কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কতৃর্ক পরিষদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রী বা রোয়েদাদ কাযর্কর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ; এবং



(ঘ) সরকার কতৃর্ক দায়যুক্ত বলিয়া ঘোষিত অন্য যে কোন ব্যয়।

(২) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত কোন ব্যয়ের খাতে যদি কোন অর্থ অপরিশোধিত থাকে, তাহা হইলে যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের হেফাজতে উক্ত তহবিল থাকিবে সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে সরকার, আদেশ দ্বারা, উক্ত তহবিল হইতে যতদূর সম্ভব উক্ত অর্থ পরিশোধ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে।
  

 


Share with :

Facebook Twitter